বাকপ্রতিবন্ধী বর ও কনের বিয়ে

গ্রাম বাংলার আট দশটা বিয়ের মতই দিনাজপুরে দুই বাকপ্রতিবন্ধী বর ও কনের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে বাকপ্রতিবন্ধী বর অর্ধশতাধিক বরযাত্রী নিয়ে দিনাজপুর পৌর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের লালবাগ বাকপ্রতিবন্ধী কনের বাড়িতে পৌঁছে যান। এরপর আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দুই বাকপ্রতিবন্ধীর বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরে রাত ৮ টার দিকে কনেকে সঙ্গে নিয়ে বর তার নিজ বাড়িতে ফিরে যান।

বাকপ্রতিবন্ধী কনের নাম শিল্পী আক্তার। তিনি দিনাজপুর পৌর এলাকার লালবাগ মহল্লার সিদ্দিকের মেয়ে। আর বাকপ্রতিবন্ধী বরের নাম কাইয়ুম ইসলাম। দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মাঝাডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।

১০ টি অটোরিকশা করে কনের বাড়িতে অর্ধশতাধিক বরযাত্রী পৌঁছে যায়। অতিথিদের আপ্যায়নের পর বিয়ের দেনমহর হিসেবে ৮০ হাজার টাকা ধার্য করে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। বর ও কনে বাকপ্রতিবন্ধী হলেও বিয়ের রেজিস্ট্রার বহিতে বর ও কনে কলম দিয়ে স্বাক্ষর করেছেন।

এলাকাবাসী, বরযাত্রী ও কাজিসহ শতাধিক লোকের উপস্থিতিতে বাকপ্রতিবন্ধী বর ও কনে মাথা ঝুঁকিয়ে ঝুঁকিয়ে বিয়ের কবুল সম্মতি প্রকাশ করেন। ৪ জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে এ বিয়ে সম্পন্ন করেন দক্ষিণ লালবাগ জামে মসজিদের সাবেক ইমাম তোজ্জাম্মেল হক।

দুই বাকপ্রতিবন্ধীর বিয়ে উপলক্ষে লালবাগ এলাকার মানুষের মাঝে কৌতূহলী মনোভাবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। বিয়েতে প্রতিবেশীরা সহযোগিতা করেছেন। কেউ শ্রম দিয়ে আবার কেউ অর্থ দিয়ে সার্বক্ষণিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এলাকাবাসীও সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বর-কনের জন্য দোয়া করেছেন।

বিয়ের কাজী ও ইমাম তোজ্জাম্মেল হক বলেন, এ বিয়েতে ছেলে ও মেয়ে দুইজনই বাকপ্রতিবন্ধী। তারা যেন সুখে শান্তিতে বাকি জীবন অতিবাহিত করেন সেই দোয়া করি মহান আল্লাহর কাছে।

বরের দুই ভাই, বাবা ও মা রয়েছেন। ছেলে জীবিকার তাগিদে স্থানীয় বেকারিতে কর্মরত আছেন এবং কনের পরিবারে রয়েছেন দুই ভাই, এক বোন, মা ও তাদের বৃদ্ধা দাদি।

কনের মা রাণী বেগম জানান, মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনো রকমে সংসার খরচ চালান। এলাকাবাসীর সহযোগীতা নিয়ে এ বিয়ে সম্পন্ন করেছি। তাদের কাছে সারাজীবন ঋণী হয়ে থাকবো। আশা করি আমার মেয়ে ও জামাই যেন সারাজীবন সুখে থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *