পারকি সৈকত হারাচ্ছে রূপ, উজাড় ঝাউ বাগান

চট্টগ্রাম: ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে মিনি কক্সবাজার খ্যাত আনোয়ারার পারকি সমুদ্র সৈকত তার রূপ হারাচ্ছে। বালু উত্তোলন, যত্রতত্র দোকানপাট গড়ে ওঠা, ঝাউ বাগান সুরক্ষায় উদ্যোগ না থাকায় এই পর্যটন এলাকাটি ধ্বংস হতে চলেছে।

যেসব ঝাউ গাছকে কেন্দ্র করে এই সৈকত গড়ে উঠেছে সেই গাছগুলোই এখন বিলীনের পথে। সৈকতের দক্ষিণ অংশের অধিকাংশ ঝাউগাছ হেলে পড়ছে। স্থানীয় একটি চক্র রাতের আঁধারে কেটে নিয়ে যায় গাছ।

২০১৭ সালের ৩০ মে ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে ক্রিস্টাল গোল্ড নামের একটি জাহাজ বহির্নোঙর থেকে পারকি সৈকতে এসে আটকা পড়ে। দীর্ঘদিন সেখানে থাকার কারণে সৈকতের আধা কিলোমিটার অংশে পলি জমে যায়, ঝাউগাছ উপড়ে পড়ে। বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের দাবির প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ১৮ নভেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছ থেকে জাহাজটি কাটার আদেশ পায় মেসার্স ফোর স্টার এন্টারপ্রাইজ।

সাম্প্রতিক সময়ে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সৈকতে ঝাউবাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঢেউয়ের তোড়ে উপড়ে যায় বেশকিছু গাছ। বনবিভাগ উপড়ে যাওয়া ২১৭টি ঝাউগাছ ও বল্লি নিলামে বিক্রি করেছে।

জানা গেছে, স্থানীয় মো. শাহজাহান নামের এক ব্যক্তি নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১ লাখ ৮২ হাজার ৭১২ টাকায় গাছগুলো কিনে নেন। নিলামের পর বনবিভাগ বিক্রিত গাছগুলো চিহ্নিত করে দেয়। এরপর দুই সপ্তাহ ধরে গাছগুলো কেটে নেওয়ার কাজ চলছে।

বনবিভাগের বিট কর্মকর্তা মো. আলমগীর কবির জানান, পারকি সৈকতে ঝাউগাছের গোড়ার মাটি সরে গিয়ে ছোট-বড় দুই শতাধিক গাছ উপড়ে যায়। এর মধ্যে বড় ১৫৫টি এবং ছোট (বল্লি) ৬২টি গাছ নিলামে তোলা হয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মো. শাহজাহান গাছগুলো কিনে নেন।

তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ঝাউবাগানের স্থলে নতুন করে গাছ লাগানো হবে, যাতে পারকি সৈকত আগের সৌন্দর্য্য ফিরে পায়।

চট্টগ্রাম থেকে পারকি সৈকত ১৭ কিলোমিটার দূরে। দল বেঁধে ঝাঁকে ঝাঁকে লাল কাঁকড়া এবং কাছিমের ছুটোছুটি ছিল এই সৈকতের অন্যতম আকর্ষণ। এখান থেকে একসঙ্গে বঙ্গোপসাগর এবং কর্ণফুলী নদী দেখার সুযোগ থাকায় প্রতি বছর হাজারো পর্যটক আসতেন। কিন্তু যাতায়াতসহ নানা অব্যবস্থাপনায় এখন পর্যটক অনেক কমে গেছে বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধির

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *