বরিশালের সঙ্গে সারাদেশের পরিবহন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

বরিশালে শুরু হয়েছে দুই দিনের পরিবহন ধর্মঘট। শুক্রবার (৪ নভেম্বর) ভোর থেকে শুরু হওয়া এ ধর্মঘটের কারণে জেলা শহরের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক ও লঞ্চ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পরেছেন যাত্রীরা।

বরিশালের নথুল্লাবাদ ও রূপাতলি বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। অনেকে আবার বিকল্প উপায়ে আতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন। যাত্রীরা বিভিন্ন স্থানে গাড়ি পরিবর্তন করে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে

এর আগে ৩ নভেম্বরের মধ্যে মহাসড়কে নসিমন-করিমনসহ অন্যান্য অবৈধ যান চলাচল বন্ধ না হলে ৪ নভেম্বর সকাল থেকে ৫ নভেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত বরিশালে স্থানীয় ও দূরপাল্লা রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপ। গত ২৪ অক্টোবর এ ঘোষণা দেন তারা।

এদিকে একটি লঞ্চে হামলার প্রতিবাদে লঞ্চ মালিকরাও বরিশাল-ভোলা রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখেন বৃহস্পতিবার। আর আজ (শুক্রবার) সকাল থেকে অভ্যন্তরীন সব রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেন তারা। এরফলে কোনো লঞ্চ যাত্রী নিয়ে বরিশাল ছেড়ে যায়নি, আবার কোনো লঞ্চ বরিশালে আসেওনি।

মনির হোসেন নামে মেহেন্দিগঞ্জের পাথারহাটের এক বাসিন্দা বলেন, ডাক্তার দেখাতে বৃহস্পতিবার সকালে বরিশালে আসি। রাত হয়ে যাওয়ায় আর ফিরতে পারিনি। আজ সকালে ঘাটে এসে দেখছি লঞ্চ চলাচল বন্ধ। এখন বাধ্য হয়ে বরিশালে থাকতে হবে।

নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে কথা হয় ফজলু নামে পটুয়াখালীর বাউফলের এক বাসিন্দার সঙ্গে। তিনি বলেন, জরুরি প্রয়োজনে বাড়িতে যাওয়ার জন্য সকালে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে এসেছি। কিন্তু বাস চলছে না। তাই বাধ্য হয়ে কয়েকগুন বেশি ভাড়া দিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছি।

ধর্মঘটের বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ বলেন, ‘আমাদের সমাবেশ ঠেকাতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। তবে তাদের কোনো উদ্যোগই সফল হবে না। সব বাধা অতিক্রম করে দুই দিন আগেই সমাবেশস্থলে হাজির হচ্ছেন নেতাকর্মীরা। এখানেই তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

বরিশাল পটুয়াখালী মিনি বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাউছার হোসেন শিপন বলেন, ‘মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচলবন্ধের দাবিতে তারা আগে থেকেই ৪ ও ৫ নভেম্বর ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছেন। এতে মানুষ বিষয়টি আগে থেকেই জানতো।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ ( বিআইডব্লিউটিএ) বরিশালের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিদর্শক কবির হোসেন বলেন, ‘লঞ্চে হামলার প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর থেকে বরিশাল-ভোলা রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আজ সকাল থেকে অভ্যন্তরীন সব রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে, এরফলে কোনো লঞ্চ যাত্রী নিয়ে বরিশাল ছেড়ে যায়নি, আবার কোনো লঞ্চ বরিশালে আসেওনি। যদিও লঞ্চে বন্ধের বিষয়ে মালিক বা শ্রমিক সমিতি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *