শাড়ি-পাঞ্জাবি-মিষ্টির টাকাও ফেরত নেওয়ার অভিযোগ সদস্যের বিরুদ্ধে

রংপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে জয়লাভের পর ভোটারদের (ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি) কাছ থেকে টাকা ফেরত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আলতাব হোসেনের বিরুদ্ধে। শুধু নগদ টাকাই নয়, ভোটের আগে দেওয়া মিষ্টি, শাড়ি, পাঞ্জাবিসহ ছোটদের খেলনা সামগ্রীর টাকাও ফেরত নিয়েছেন জেলা পরিষদ সদস্য আলতাব।

এরআগে টাকা ফেরত পেতে কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ ইউনিয়নের এক নারী সদস্যকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এবার ওই উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরাও এমন অভিযোগ তুলেছেন।

টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইউনুস আলী বলেন, ‘ভোটের আগের রাত সাড়ে ৩টার দিকে আলতাব হোসেন আমার বাড়িতে আসেন। এরপর তাকে ভোট দেওয়ার জন্য চেয়ারম্যানকে এক লাখ এবং পুরুষ ও নারী সদস্যদের ৫০ হাজার করে টাকা দেন। কিন্তু নির্বাচনে জেতার পরের দিন চেয়ারম্যানসহ সবার কাছ থেকে চাপ প্রয়োগ করে টাকা ফেরত নিয়েছেন আলতাব।’

ওই ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও সদস্য আবুল কাশেম বলেন, ‘আলতাব ভোটে জেতার পর ফোনে চেয়ারম্যানকে অকথ্য ভাষায় গালাগালিজ করেন এবং সবাইকে টাকা ফেরত দিতে হুমকি দেন। পরে আলতাবকে ডেকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আমরা সবাই তাকে টাকা ফেরত দিয়েছি।’

সদস্য আব্দুল মতিন বলেন, ‘ভোট কেনার জন্য ৫০ হাজার টাকাসহ মিষ্টি এবং শাড়ি-পাঞ্জাবির টাকাও ফেরত দিয়েছি আমরা সবাই।’

ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আলতাবের কাছ থেকে ভোটের জন্য আমরা কেউ টাকা চাইনি। তিনি নিজেই ইউনুস আলী মেম্বারের বাড়িতে আমাদের ডেকে নিয়ে জোর করে তাকে ভোট দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার করে টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু ভোটে জেতার পর আমরা নাকি তাকে ভোট দেইনি এমন অভিযোগ এনে আমাদের কাছ থেকে টাকা ও গিফট ফেরত চান। টাকা ফেরত না দিলে আমাদের অপদস্থ করা হবে বলে হুমকি দেন। সম্মানের ভয়ে আমরা সবাই টাকা ফেরত দিয়েছি।’

একই ইউনিয়নের নারী সদস্য রুহি বেগম বলেন, ‘শুধু নগদ টাকাই নয়, ভোটের আগে দেওয়া মিষ্টি, বাচ্চাদের জন্য দেওয়া উপহারসামগ্রী, পাঞ্জাবি ও শাড়ির টাকাও ফেরত নিয়েছেন আলতাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এলাকার মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। জেলা পরিষদ নির্বাচনে আমাদের ভোট বিক্রি করা ঠিক হয়নি। আমরা এই ভোট বাতিলের দাবি জানাই।’

এ বিষয়ে টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জানতে চাইলে রংপুর জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য আলতাব হোসেন বলেন, ‘আমি নির্বাচন করেছি। নির্বাচনে আমি দিনে-রাতে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চেয়েছি। তার আমাকে সম্মানিত করেছেন। তবে আমি কাউকে টাকা দেইনি, কারও কাছে টাকা ফেরতও চাইনি। যারা টাকা ফেরতের কথা বলছেন তারা পরাজিত প্রার্থীর কথায় জেলা পরিষদ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার পায়তারা করছেন।’

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর রংপুর জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২ নম্বর ওয়ার্ডের (কাউনিয়া উপজেলা) সদস্য প্রার্থী ছিলেন আলতাব হোসেন, গোলাম সারোয়ার বাবু ও মিজানুর রহমান মিজান। নির্বাচনে ৫২ ভোট পেয়ে আলতাব হোসেন সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী গোলাম সারোয়ার ৪০ ভোট ও মিজানুর রহমান মিজান পেয়েছেন এক ভোট।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *