চট্টগ্রামে কি বদলাবে টাইগারদের ভাগ্য?

টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভরাডুবির পর এখন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সম্পূর্ণ মনযোগ লাল বলের ক্রিকেটে৷ শুক্রবার থেকে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু হবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম টেস্ট ম্যাচ৷

বাংলাদেশ দলের পয়মন্ত ভেন্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম৷ বিশেষ করে লাল বলের ক্রিকেটে টাইগারদের অনেক সুখস্মৃতি আছে এই ভেন্যুতে। তবে, দুঃখজনকভাবে খুব একটা ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ পায় না বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান এই ক্রিকেট গ্রাউন্ড৷

২০০৬ সালে লাল বলের আন্তজার্তিক ক্রিকেটে অভিষেক হলেও এখনো পর্যন্ত মাত্র ২১ টি টেস্ট ম্যাচ আয়োজিত হয়েছে এই ভেন্যুতে। বিগত চার বছরে মাত্র পাঁচটি আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচের সাক্ষী হয়েছে মাঠ৷ সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখেছে এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে। এরপরে ৯ মাস কেটে গেলেও এবং অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের মত দল বাংলাদেশ সফরে আসলেও অবহেলিতই থেকে গেছে এই ক্রিকেট স্টেডিয়াম।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম সবসময়ই সাহায্য করেছে বাংলাদেশ দলকে৷ এই মাঠে মাত্র দুইটি জয়ের দেখা পেলেও এখানে অনেক সুখস্মৃতি আছে টাইগারদের। বিশেষ করে অনেকগুলো জয়ের সমতুল্য ড্র এসেছে এই স্টেডিয়ামে। দেশের মাটিতে টাইগারদের করা ১৩ ড্রয়ের ৬টিই এসেছে এই গ্রাউন্ডে। তবে, পাকিস্তানের সাথে একবারই এই মাঠে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচ ইনিংস ও ১৮৪ রানে জিতে নিয়েছিল সফরকারীরা৷

চট্টগ্রামের এই মাঠে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ৭১৩ রান শ্রীলঙ্কার দখলে৷ বাংলাদেশ দলের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ৫১৩ রানও এসেছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই৷ ২০০৮ সালে বাংলাদেশকে ইনিংস ও ২০৫ রানে হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা৷ এই মাঠে এটাই সবচেয়ে বড় ব্যবধানের হার। বাংলাদেশ দলের সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয় এসেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ২০১৪ সালে টাইগাররা সে ম্যাচ জিতেছে ১৮৬ রানে।

নিজের পরিচিত ঘরের মাঠে খেলতে নামলেই হাসে টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হকের ব্যাট৷ পরিসংখ্যান বলছে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টাইগার দলপতি একেবারে অপ্রতিরোধ্য৷ তাই তো, ১০ ম্যাচে ১১৯৭ রান নিয়ে এই গ্রাউন্ডের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এই ব্যাটারই৷ ব্যাটিং গড়ও অবিশ্বাস্য, প্রায় ৭৫! তার চেয়ে ১২ ইনিংস বেশি খেলে ১৩৯৪ রান নিয়ে দুই নম্বরে আছেন মুশফিকুর রহিম৷ তালিকার পরের তিন অবস্থানে আছেন যথাক্রমে তামিম ইকবাল (৯০৫ রান), সাকিব আল হাসান (৮৬৫ রান) ও কুমার সাঙ্গাকারা৷

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের অন্যান্য মাঠের মত একটু বাড়তি সুবিধা পেয়েছেন স্পিনাররা৷ সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকের তালিকায় পাঁচ জনের চার জনই তাই স্পিন বোলার৷ ৬০ উইকেট নিয়ে সবার উপরে আছেন সাকিব আল হাসান৷ দুইয়ে আছেন আরেক বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম ৩০ উইকেট নিয়ে৷ তিনে থাকা মেহেদী হাসান মিরাজের সংগ্রহ ২৭ উইকেট৷ ২২টি ও ১৩টি উইকেট নিয়ে চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে আছেন যথাক্রমে শাহাদাত হোসেন ও নাথান লায়ন৷

বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচেও অপ্রত্যাশিত আচরণ করার সম্ভাবনা কম চট্টগ্রামের উইকেটের। বরাবরের মত এখানে রাজত্ব করবেন স্পিনাররা৷ বাংলাদেশ দল আবারো ভরসা রাখতে চাইবে মমিনুল হকের ব্যাটেই৷ কিন্তু, এতোকিছুর পরেও থেকে যাচ্ছে সেই পুরনো শঙ্কা! জার্সি আর বলের রঙ বদলের সাথে কি বদলাবে বাংলাদেশ দলের ভাগ্যও? নাকি পয়মন্ত জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামও এবার বেরসিক আচরণ করে আরো বাড়িয়ে দিবে টাইগারদের দূর্ভাগ্য?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *