স্কুল খোলার প্রথম দিনেই আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

দীর্ঘ দিন পর স্কুল খোলার প্রথম দিনেই প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। মুকসুদপুর উপজেলার বোয়ালিয়া নেজামুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে।

রোববার সকালে উপজেলার বোয়ালিয়া নেজামুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে প্রধান শিক্ষকের বিচারের দাবিতে স্কুল চত্বরে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। পরে ওই স্থান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে শতাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা নির্বাচন অফিসের সামনে কিছু সময় অবস্থান করে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সেখানে অবস্থান নেয়। পরে সেখানে মানববন্ধন করে বিভিন্ন ধরনের লেখা প্লাকার্ড প্রদর্শন করে বিক্ষোভ করে।

বেলা ১২টার দিকে মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কবির মিয়া ও ভাইস চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম মোল্যা ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল শেষ করেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, প্রধান শিক্ষক মো. রকিবুল হাসান স্কুলে নানা ব্যাপারে দুর্নীতি করে আসছে। ২০২০ সালের জেএসসি পরীক্ষায় প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেন। রেজাল্ট আশার পর দেখা যায়, ১২ জন শিক্ষার্থীর রেজাল্ট, মুকসুদপুর পৌরসভার প্রভাকরদী হাজী ছখিউদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে এসেছে।

প্রশংশা পত্র নেয়ার সময়ও বোয়ালিয়া নেজামুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রকিবুল হাসান এর প্রতিষ্ঠিত প্রভাকরদী হাজী ছখিউদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রশংসা পত্র দেয়া হয়।

প্রশংসা পত্রে স্বাক্ষর করেন বোয়ালিয়া নেজামুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রকিবুল হাসান। এতে করে পরবর্তীতে অন্য কোন স্কুলে ভর্তির সময় এবং পড়াশোনা শেষে চাকরির ক্ষেত্রে নানা সমস্যায় পড়তে হবে বলে অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, প্রধান শিক্ষক রকিবুল হাসান অ্যাসাইনমেন্ট জমা নেয়ার সময় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিকট থেকে ২০ টাকা করে এবং অ্যাসাইনমেন্ট সময় মত জমা দিতে না পারলে আরও ২০ টাকা জরিমানা নেন।

জেএসসি এবং এসএসসি ফরম ফিলাপের সময় অতিরিক্ত টাকা নেন। তার ছত্র ছায়ায় স্কুলের শিক্ষক রনজিৎ সেন ও শামিমা বেগম কোচিং বাণিজ্য করে। কোন শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়তে না চাইলে পরীক্ষায় ফেল করাবে বলে হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ করে।

এ ব্যাপারে সহকারী শিক্ষক রঞ্জিত দত্ত জানান, আমি ৫ বছর প্রাইভেট পড়াই না। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, এতে আমি জড়িত নই। প্রধান শিক্ষক যে কাজ করেছে এটাও মেনে নেয়া যায় না। প্রধান শিক্ষক যা করতে বলেছেন আমি সেটাই করেছি।

প্রধান শিক্ষক রাকিবুল হাসানের সাথে যোগাযোগ করলেও তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। বরং বিভিন্ন তালবাহানা করে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

প্রভাকরদী হাজী ছখিউদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আযাদ জানান, আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকায় শিক্ষার্থী বাড়ানোর জন্য বোয়ালিয়া নিজামউদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২ শিক্ষার্থীর রেজিষ্ট্রেশন আমাদের বিদ্যালয় থেকে করা হয়েছে।

তারা কখনো আমাদের স্কুলে ক্লাস করেনি। তারা ওই স্কুলেই ক্লাস করেছে সার্টিফিকেট আমার স্কুলের নামে বোর্ড থেকেই হয়েছে এখানে কোন ভুল হয়নি।

অত্র স্কুলের সভাপতি মো. কাজী ফিরোজ জানান, স্কুলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে এটা সত্য। ঘটনার প্রেক্ষিতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করা হবে না আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যপারে মুকসুদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদৎ আলী মোল্যা জানান, আমি এখনও কোন অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অ্যাসাইনমেন্টের জন্য জরিমানার কোন সুযোগ নেই, যদি কেউ নেয় তার বিরুদ্বে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *